Home » রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ৪২৭ জন গ্রেপ্তার, ৫৪ মামলা: নেপথ্যে মিলল যেসব তথ্য

রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ৪২৭ জন গ্রেপ্তার, ৫৪ মামলা: নেপথ্যে মিলল যেসব তথ্য

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ৪২৭ জন গ্রেপ্তার, ৫৪ মামলা: নেপথ্যে মিলল যেসব তথ্য

রাজধানী ঢাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারশত সাতাশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট চুয়ান্নটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে সবচেয়ে বেশি উননব্বই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মিরপুর বিভাগে বিরাশি জন এবং মতিঝিল বিভাগে পঞ্চান্ন জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ারী ও লালবাগ বিভাগেও অর্ধশতাধিক করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশ ও গুলশান বিভাগেও বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশিকালে চুয়ান্ন কেজির বেশি গাঁজা এবং পাঁচ শতাধিক ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হেরোইন ও চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধীদের নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা পুলিশের এই ধারাবাহিক কঠোর নজরদারিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি থাকলে পেশাদার অপরাধী ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দ্রুত ভেঙে পড়ে। তবে অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের অযথা হয়রানি না করার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নির্জন সড়ক ও বাজার এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এতে রাতের ঢাকায় অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অপরাধ নির্মূলে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। যে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপ-কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে রাজধানীর প্রতিটি নাগরিকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হাইলাইটস:

  • রাজধানীতে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৪২৭ জন গ্রেপ্তার, ৫৪টি মামলা দায়ের।
  • অভিযানে ৫৪ কেজির বেশি গাঁজা ও পাঁচ শতাধিক ইয়াবা বড়িসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ।
  • অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাজারগুলোতে রাত্রিকালীন টহল জোরদারের নির্দেশ।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন