কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। গুগল, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক যৌথভাবে একটি স্বাধীন এআই নিরাপত্তা সংস্থা গঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গণমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আজ রোববার এই পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিশ্বজুড়ে উন্নত এআই মডেলের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই এই নতুন বৈশ্বিক সংস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই যৌথ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শীর্ষ এআই নীতি উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উন্নত এআই মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সেগুলোর ঝুঁকি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করাই এই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য। এটি শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করবে না। বরং সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিকতার কঠোর পরীক্ষাও পরিচালনা করবে। সিলিকন ভ্যালির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি জায়ান্টরা একে অপরের সঙ্গে তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে এক টেবিলে বসার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
এদিকে অ্যালফাবেটের প্রধান বিজ্ঞানী এবং ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেমিস হাসাবিস আগেই একটি স্বাধীন এআই তদারকি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাতের বিখ্যাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিনরার আদলে প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ নির্বাহীরাও সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে এআই নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা স্বীকার করেছেন যে, এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন এই কনসোর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপজ্জনক বিস্তার ঠেকাতে শিল্পের নিজস্ব তদারকি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ও আইনপ্রণেতারা এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে তারা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মূল উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন আস্থা তৈরি করবে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শীর্ষ এআই বিজ্ঞানীদেরও এই যৌথ সংস্থার নীতি নির্ধারণী প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্ট করেছে যে, এই যৌথ নিরাপত্তা সংস্থা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক উদ্ভাবনের গতি শ্লথ করবে ছলবে না। বরং একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই রূপান্তরে নেতৃত্ব দেবে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও এই উদ্যোগকে দায়িত্বশীল প্রযুক্তির পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আগামী দিনগুলোতে মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো অন্যান্য শীর্ষ সংস্থাকেও এই নিরাপত্তা জোটে অন্তর্ভুক্ত করার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
হাইলাইটস:
- উন্নত এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থা গঠন করছে গুগল, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক।
- মডেল উন্মুক্ত করার আগেই সাইবার ও নৈতিক ঝুঁকি মূল্যায়নে কাজ করবে নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
- ডেমিস হাসাবিসের প্রস্তাবনায় আর্থিক খাতের আদলে প্রযুক্তি শিল্পে স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর সূচনা।