Home » চীনের তীব্র বিরোধিতার মুখে তাইওয়ানকে নতুন যুদ্ধবিমান দিল যুক্তরাষ্ট্র

চীনের তীব্র বিরোধিতার মুখে তাইওয়ানকে নতুন যুদ্ধবিমান দিল যুক্তরাষ্ট্র

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
চীনের তীব্র বিরোধিতার মুখে তাইওয়ানকে নতুন যুদ্ধবিমান দিল যুক্তরাষ্ট্র

বেইজিংয়ের তীব্র হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক বিরোধিতার তোয়াক্কা না করেই তাইওয়ানের কাছে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর দ্বীপরাষ্ট্রটি মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে সরাসরি এ ধরনের যুদ্ধবিমান পেল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও তাইপেইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ রোববার এই ঐতিহাসিক সামরিক চালানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এই চালানকে তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই বিমানগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। এই যুদ্ধবিমানগুলো আকাশসীমায় যেকোনো আধুনিক বিমান হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। এছাড়া এগুলো সর্বশেষ প্রযুক্তির রাডার ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই সহায়তা অঞ্চলটিতে আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং শান্তির ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর অবদান রাখবে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই উন্নত বিমানগুলো তাইপেইর বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

এদিকে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন সরকার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ বেইজিংয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক চীন নীতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে যে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা প্রদানের কঠোর জবাব দেবে বেইজিং। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন প্রয়োজনীয় সব ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার জেরে তাইওয়ান প্রণালীতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের টহল আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বিমান হস্তান্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক সমীকরণকে নতুন মোড় দেবে। গত কয়েক মাস ধরেই চীন তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সীমানা লঙ্ঘন করে ধারাবাহিক উসকানিমূলক মহড়া চালিয়ে আসছে। নতুন যুদ্ধবিমান যুক্ত হওয়ায় তাইওয়ানের বিমানবাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে আত্মরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। তবে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও পুরো পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, নবনির্মিত এই যুদ্ধবিমানগুলো খুব দ্রুত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হবে। বৈমানিকদের আধুনিক কৌশলগত প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান কোনো ধরনের যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রত্যাশা করে তাইপেই প্রশাসন। সামগ্রিকভাবে ওয়াশিংটনের এই সামরিক সিদ্ধান্ত বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হাইলাইটস:

  • ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পেল তাইওয়ান।
  • এক চীন নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের।
  • তাইওয়ান প্রণালীতে আকাশ ও নৌ টহল জোরদারের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন