বঙ্গোপসাগর দিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬৩ জনকে জিম্মি ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মানবপাচার চক্রের ১৩ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রবিবার (৪ অক্টোবর) আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গভীর সমুদ্রে বিকল হয়ে পড়া ট্রলার থেকে পাচারের শিকার ৬৩ জন এবং পাচারকারী সন্দেহে ১৩ জনসহ মোট ৭৬ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এহসানুল হাসান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর আওতায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগ্রহীদের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জড়ো করেছিল। সেখানে জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা করে আদায় করার পর ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ‘আল্লাহর দান’ নামের একটি কাঠের ফিশিং ট্রলারে তাদের তুলে দেওয়া হয়।
নৌবাহিনীর অভিযান সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রে ট্রলারটির ইঞ্জিন ও পানি নিষ্কাশন পাম্প বিকল হয়ে ট্রলারে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ভাসমান ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনীর টহল দলকে সতর্ক করে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রলারে থাকা সব যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৬৩ জনের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার নারী ও পুরুষ রয়েছেন। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তরের আইনি কার্যক্রম চলছে। পলাতক অপর আসামিসহ পাচার চক্রের মূল হোতাদের শনাক্তে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
হাইলাইটস:
- বঙ্গোপসাগরে ট্রলার বিকল হয়ে বিপদে পড়া ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী।
- মালয়েশিয়ায় লোক পাচারের অভিযোগে টেকনাফ থানার মামলায় ১৩ পাচারকারী কারাগারে।
- জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা আদায়ের তথ্য, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ যাত্রী।