ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস এবং কৃষকদের সেচ ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প প্রকল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌর সেচের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্তত ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদী জমি নতুন করে রবি ও বোরো চাষের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
কৃষি প্রকৌশলীরা জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রথাগত ডিজেলচালিত ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পরিচালনায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হতো জ্বালানি সংগ্রহে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হতো। নতুন সৌর সেচ পাম্পগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সেন্সর এবং সৌর প্যানেল স্থাপন করায় দিনের বেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে জমিতে সেচ প্রদান করা যাচ্ছে। এর ফলে ডিজেলের ব্যবহার শূন্যে নেমে আসায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে。
বিএমডিএর প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, সৌর সেচ ব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক ‘ড্রিপ ও ড্রপ ইরিগেশন’ পদ্ধতি সংযুক্ত করায় পানির অপচয় প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে。
কৃষি মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগকে সারা দেশের নদী অববাহিকা ও চরাঞ্চলগুলোতে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সৌর সেচ চালু হওয়ায় অনাবৃষ্টি ও জ্বালানি সংকটের অনিশ্চয়তা ছাড়াই তারা ডাল, সরিষা, শাকসবজি ও ধান চাষে দ্বিগুণ ফলন লাভের আশা করছেন。
হাইলাইটস:
- বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌর সেচের মাধ্যমে ১২ হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায়।
- কৃষকদের সেচ খরচ ৩৫ শতাংশ হ্রাস, কমেছে ডিজেল ও বিদ্যুৎ নির্ভরতা।
- পানির অপচয় ৬০ শতাংশ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি বিস্তারে বিএমডিএর উদ্যোগ।