Article Information Author, দিব্যা আরিয়া Role, সংশ্লিষ্ট সূত্র সংবাদদাতা Published ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৮ +০৬ পড়ার সময়: ৭ মিনিট রাধিকা কুমারী তার পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়ালে লেখা সরকারি বার্তাটি পড়ার চেষ্টা করছিল। সেখানে হিন্দিতে যা লেখা আছে, তার বাংলা মানে দাঁড়ায়- 'অপরিচ্ছন্নতা প্রাণঘাতী, পরিচ্ছন্নতাই সেবা'।
কিন্তু ১৬ বছর বয়সী রাধিকা অতি কষ্টে শুধু প্রথম শব্দটিই পড়তে পারে।
বাকি অংশ পড়ার বদলে সে আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার দিকে ইশারা করে।
পাঁচ বছর আগে, কোভিড মহামারির সময়ে, শিক্ষার মানের বিচারে পিছিয়ে থাকা এবং ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্যগুলোর একটি ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলায় গিয়ে আমাদের রাধিকার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে ডুম্বি নামে একটি ছোট গ্রামে থাকে সে।
পাঁচ বছর পর আবার যখন আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন সে উপরের শ্রেণিতে উঠে গেছে ঠিকই, কিন্তু পড়াশোনা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
রাধিকার মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কোভিড মহামারির সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মেয়েদের পড়াশোনায় ঠিক কেমন প্রভাব ফেলে।
স্কুলশিক্ষা নিয়ে ২০২৪ সালে দেশব্যাপী একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, গড়ে শিশুদের শেখার মান উন্নত হয়েছে। তবে সবার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান সত্যি নয়।
অতিমারীর সময়ে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাব শিশুদের ওপর কীভাবে পড়েছিল, তা বোঝার জন্য ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ঘুরে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ। তার মতে, “গড় পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় ধরনের বৈষম্য লুকিয়ে থাকে”।
ইনস্টাগ্রামে সংশ্লিষ্ট সূত্র ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে
২০২১ সালে যখন আমাদের সঙ্গে রাধিকার দেখা হয়েছিল, তখন কোভিড মহামারি ঠেকাতে জারি করা লকডাউনের কারণে তার স্কুলসহ ভারতের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল। রাধিকার স্কুল আবার খুলতে সময় লেগেছিল দুই বছর।
বেসরকারি স্কুল ও শহরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান চললেও, প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি স্কুলগুলোয় শিক্ষা কার্যত থমকে গিয়েছিল।
সেই সময় রাধিকার গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না, তার পরিবারের কাছেও কোনো স্মার্টফোন ছিল না।
স্কুলশিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাধিকার পড়া-লেখার দক্ষতা এতটাই কমে গিয়েছিল যে সে হিন্দি বর্ণমালা চিনতেও ভুলে যায়।
দলিত ও আদিবাসী অধ্যুষিত একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা রাধিকার জন্য কোভিডের সময় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ছিল কেবল শুরু। পরবর্তী বছরগুলোয় একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র ও জাতিসংঘ দপ্তর
হাইলাইটস:
- Article Information Author, দিব্যা আরিয়া Role, সংশ্লিষ্ট সূত্র সংবাদদাতা Published ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৮ +০৬ পড়ার সময়: ৭ মিনিট রাধিকা কুমারী তার পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়ালে লেখা সরকারি বার্তাটি পড়ার চেষ্টা করছিল।
- কিন্তু ১৬ বছর বয়সী রাধিকা অতি কষ্টে শুধু প্রথম শব্দটিই পড়তে পারে।
- বাকি অংশ পড়ার বদলে সে আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার দিকে ইশারা করে।