Home » মূল্যস্ফীতি ও আয়ের সংকটে দেশে নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

মূল্যস্ফীতি ও আয়ের সংকটে দেশে নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
মূল্যস্ফীতি ও আয়ের সংকটে দেশে নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের লাগামহীন দরবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ (৩১ মিলিয়ন) মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। অর্থনীতি ও মানবউন্নয়ন বিষয়ক শীর্ষ গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) দেশব্যাপী পরিচালিত সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রভাব সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও অসচ্ছল পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সহনশীলতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে。

পিপিআরসির গবেষণা প্রতিবেদনে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাসিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে শুধু দুবেলা খাবারের সংস্থানে। এর ফলে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে সন্তানের পড়াশোনার খরচ বন্ধ করে দিচ্ছে, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ঝুঁকির মধ্যে থাকা পরিবারগুলোতে সামান্যতম অসুখ, চাকরিচ্যুতি বা আকস্মিক আর্থিক বিপর্যয় ঘটলেই তারা স্থায়ীভাবে চরম দারিদ্র্যের অন্ধকূপে তলিয়ে যাবে。

অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা সরকারকে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অচলাবস্থা ও রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা অবিলম্বে দ্বিগুণ করতে হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রয় (ওএমএস) এবং গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য টিসিবির পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই。

গবেষণা প্রতিবেদনে পণ্য সরবরাহ চেইনে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের কারসাজি ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমনের সুপারিশ করা হয়। উৎপাদনকারী সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী কৃত্রিম মুনাফা কমাতে ডিজিটাল বাজার তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় দেশের বিপুল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা ও সামাজিক বৈষম্য আগামী দিনগুলোতে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে。

হাইলাইটস:

  • টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে দেশে নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার চরম ঝুঁকিতে।
  • নিম্ন আয়ের পরিবারে মোট উপার্জনের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে মৌলিক খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী দ্বিগুণ করা ও খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রয় (ওএমএস) সম্প্রসারণের জোরালো তাগিদ।

তথ্যসূত্র: পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও অর্থনৈতিক গবেষণা ডেস্ক

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন