যশোর শহরের শংকরপুর বালির মাঠ এলাকায় শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৮টি তাজা ও অতি-বিস্ফোরক শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত আনুমানিক ১টার দিকে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল ওই নির্জন বালির মাঠ এলাকা চারদিক থেকে ঘেরাও করে। অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকার ও অলিগলির সুযোগ নিয়ে সেখানে অবস্থান করা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক চক্রের সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়。
অভিযান পরিচালনাকারী বিশেষ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যে জানা গিয়েছিল যে একটি সংঘবদ্ধ নাশকতামূলক চক্র ওই স্থানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে দেশীয় ও রাসায়নিক বিস্ফোরক নিয়ে জড়ো হয়েছে। ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বালুর নিচে একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো ৮টি শক্তিশালী তাজা ককটেল সদৃশ বোমা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বোমাগুলো জব্দ তালিকাভুক্ত করে রাতেই যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে。
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব এবং আসন্ন জাতীয় স্পর্শকাতর ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী বা চরমপন্থী গোষ্ঠী যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের নাশকতা, আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছিল কি না তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত বোমাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে তলব করা হয়েছে。
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের ঘটনায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের আসামি করে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া আসামিদের শনাক্ত ও অবিলম্বে গ্রেপ্তারে শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও শংকরপুরসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট, তল্লাশি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে。
হাইলাইটস:
- রাত ১টায় যশোর শহরের শংকরপুর বালির মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮টি তাজা বোমা উদ্ধার।
- অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় নাশকতাকারী চক্রের সদস্যরা, এলাকায় জোরদার তল্লাশি।
- শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ মামলা দায়ের।
তথ্যসূত্র: পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা