দেশের দরিদ্র, অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৯ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন মানুষকে সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করেছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (এনএলএএসও)। একই সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অসহায় বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে।
৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিস ও ১৬৬৯৯ হেল্পলাইনের সাফল্য
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট সুবিধাভোগীদের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৭ জন বিচারপ্রার্থী। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩১ হাজার ৪০৯ জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৫৮ জন শ্রমিক বিনামূল্যে আইনি প্রতিকার পেয়েছেন।
পাশাপাশি সরকারি টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ‘১৬৬৯৯’-এ কল করে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ ও সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন নাগরিক। এছাড়া ফেসবুক মেসেঞ্জারসহ ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও ৪৫৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আইনমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা
ঢাকায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহযোগিতায় আয়োজিত ৩৩ জন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার ব্যবস্থার ওপর মামলার চাপ কমাতে এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে।
এনএলএএসও-এর মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের পরিবহন ও ছুটি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
হাইলাইটস:
- ২০০৯ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন অসচ্ছল মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান।
- ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিস ও শ্রমিক সেলের মাধ্যমে ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়।
- টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৬৯৯-এর মাধ্যমে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন নাগরিককে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ।
তথ্যসূত্র: আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন