বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণে ৯টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় প্রতি বছর বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পূর্ণ সরকারি স্কলারশিপে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সেমিকন্ডাক্টরে যৌথ গবেষণা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির প্রধান অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানোটেকনোলজি, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি। দুই দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ শিক্ষক বিনিময় ও যৌথ পিএইচডি ডিগ্রি কার্যক্রম চালু করা হবে। ইউজিসি সচিবালয় জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা চীনের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পোস্ট-ডক্টরাল ও দীর্ঘমেয়াদি ফেলোশিপের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সে উন্নত প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশে ফিরে এসে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করবেন।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপনে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে চীন সরকার। স্থানীয় গবেষকরা উন্নত সুপারকম্পিউটিং ও বায়োটেকনোলজির ডেটাবেজে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন, যা দেশের শিল্প খাতের উদ্ভাবনী অগ্রগতিকে গতিশীল করবে।
মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ ও পেশাগত উচ্চশিক্ষা
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় স্কলারশিপের জন্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন সুবিধা এবং মাসিক আকর্ষণীয় জীবনযাত্রার ভাতা প্রদান করা হবে যাতে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা মেধার বিকাশে কোনো বাধা না হয়। চুক্তির অধীনে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে উন্নত গবেষণার জন্য বিশেষ ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম সরবরাহ করবে এবং দুই দেশের গবেষকদের যৌথ প্রকাশনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই বৃত্তির আওতায় প্রথম ব্যাচের আবেদন গ্রহণ শুরু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশি তরুণদের বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জ্ঞান ও গবেষণায় তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি জাতীয় সমৃদ্ধির পথকে সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকেরা। ফলে আধুনিক বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীরা জাতীয় অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
হাইলাইটস:
- বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ৯টি ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর।
- প্রতি বছর ৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ সরকারি স্কলারশিপে চীনে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে পড়ার সুযোগ।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন ও যৌথ পিএইচডি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ।
তথ্যসূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)