রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট নিরসন, প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোকে সুগম করা এবং চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর তীর রক্ষা করে একটি কার্যকর বৃত্তাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘ইনার সার্কুলার রোড’ প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা।
নদী তীরবর্তী আধুনিক করিডোর ও ট্রাফিক ডাইভারশন
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, রাজধানীর অভ্যন্তরীণ যানজট বাইপাস করে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে সহজে চলাচলের সুযোগ করে দিতে এই সার্কুলার রোড হবে ঢাকার যোগাযোগের লাইফলাইন। প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর দখলমুক্ত করে চার লেনের আধুনিক মহাসড়ক, ওয়াকওয়ে এবং ইউটিলিটি ডাক্ট স্থাপন করা হবে। নগর পরিকল্পনাবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে যদি একটি নিরবচ্ছিন্ন বৃত্তাকার সড়ক যোগাযোগ এবং সমন্বিত নৌপথ গড়ে তোলা যায়, তবে শহরের অভ্যন্তরীণ যানবাহনের চাপ অর্ধেকের বেশি কমে আসবে। এই করিডোর ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক জোন ও আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রথম ধাপে ডেমরা, পোস্তগোলা, বসিলা, গাবতলী ও আশুলিয়া অংশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংযোগ সড়কগুলোর সংস্কার দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) যৌথভাবে এই প্রকল্পের অর্থায়ন ও প্রকৌশল নকশার কাজ তদারকি করছে।
অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও দূষণমুক্ত সবুজ নগরী
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনার সার্কুলার রোড সম্পূর্ণ চালু হলে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ না করেই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দৈনিক যানজট অন্তত ৩৫ শতাংশ হ্রাস পাবে এবং কোটি কোটি টাকার কর্মঘণ্টা ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে নদী তীরের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করে সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে ডিজিটাল সার্ভে করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অপচয় বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে নগরবাসীকে যানজটমুক্ত নগর উপহার দেওয়াই এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য। আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজ ও সকল অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
হাইলাইটস:
- ঢাকার যানজট নিরসনে ‘ইনার সার্কুলার রোড’ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ।
- বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীর দখলমুক্ত করে চার লেনের আধুনিক বৃত্তাকার করিডোর নির্মাণ।
- দূরপাল্লার পণ্যবাহী যান বাইপাস হওয়ায় রাজধানীতে যানজট ৩৫ শতাংশ কমে আসার আশা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)