Home » কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত

কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুটপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে, যাতে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোতলা রিসোর্টটি অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুটপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আবাসন সুবিধাগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোতলা রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না এবং চলতি বছরের জুন মাসেও সতর্ক করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার জেলায় রিসোর্ট-সম্পর্কিত আরও দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা পর্যটকদের আবাসন সুবিধাগুলোতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে। গত ১৫ জানুয়ারি, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পশ্চিম সৈকতের গলাচিপা এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডে তিনটি রিসোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিচ ভ্যালি ইকো রিসোর্ট ধ্বংস হয়ে গেছে, পাশাপাশি কিংশুক ইকো রিসোর্ট এবং শায়ারি ইকো রিসোর্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ মে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মধ্যবর্তী প্যাসিফিক বিচ লাউঞ্জ ইকো রিসোর্টে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জানা গেছে, তিনটি কটেজ ও একটি স্টোররুম ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে রেস্তোরাঁর অংশটি অক্ষত ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছিল এবং এতে আনুমানিক ৬০-৭০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, উক্ত সময়ে জেলায় রিসোর্ট-সম্পর্কিত অন্তত তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো রিসোর্টগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যদিও এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড কতটা সাধারণ তা এগুলো থেকে প্রমাণিত হয় না বা সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ছিল কিনা তাও প্রমাণ করে না। তথাপি, বারবার অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাগুলো পর্যটন আবাসন কেন্দ্রগুলোতে অগ্নি প্রতিরোধ এবং জরুরি অবস্থার প্রস্তুতির বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। যেসব ভবনে ব্যাপক কাঠের কাঠামো বা অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থাকে, সেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলাফল নির্ভর করে আগুন কত দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম আছে কিনা, জরুরি নির্গমন পথ সহজলভ্য কিনা এবং অতিথিদের কত দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায় তার উপর। শনিবার টুটপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে লাগা অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এটি প্রতিষ্ঠা করা উচিত যে আগুন কীভাবে লেগেছিল, কত দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অতিথিদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল কিনা।

কক্সবাজারের জন্য বৃহত্তর প্রশ্নটি হলো, হোটেল ও রিসোর্টগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে কিনা এবং নিরাপত্তা বিধিগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা। সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সেই প্রশ্নগুলোকে জরুরি করে তুলেছে, কিন্তু এর উত্তর অবশ্যই প্রমাণ, সরকারি পরিদর্শন এবং অগ্নিকাণ্ড তদন্তের ফলাফল থেকে আসতে হবে। আগুন / অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা / বাংলাদেশ / কক্সবাজার / রিসোর্ট বেশিরভাগ মন্তব্যই পোস্ট করা হবে যদি সেগুলো প্রাসঙ্গিক এবং আপত্তিকর না হয়, তবে মডারেশনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনিষ্ঠ। প্রকাশিত মন্তব্যগুলো পাঠকদের নিজস্ব মতামত এবং কোনো সরকারি সূত্র পাঠকদের কোনো মন্তব্যকে সমর্থন করে না।

তথ্যসূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন

হাইলাইটস:

  • কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুটপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে, যাতে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
  • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোতলা রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না এবং চলতি বছরের জুন মাসেও সতর্ক করা হয়েছিল।
  • সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার জেলায় রিসোর্ট-সম্পর্কিত আরও দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা পর্যটকদের আবাসন সুবিধাগুলোতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন