Home » ইসলামের দৃষ্টিতে বংশের চার পুরুষের ধারণা

ইসলামের দৃষ্টিতে বংশের চার পুরুষের ধারণা

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
ইসলামের দৃষ্টিতে বংশের চার পুরুষের ধারণা

কিন্তু এই মহাজাগতিক ক্ষণস্থায়িত্বের অন্তরালে মানুষের অর্জন, পুণ্য, চরিত্র ও গুণাবলির স্বাভাবিক আয়ু কতটুকু? মানবিক মূল্যবোধ, ভালো কাজ ও বংশীয় মর্যাদারও একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র বা বয়সের সীমা রয়েছে।

ইতিহাস, ধর্ম ও মানব মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেকোনো বংশ, জাতি বা আদর্শের উত্থান-পতনের এই স্বাভাবিক বয়সকাল মূলত চার পুরুষ বা চার প্রজন্মজুড়ে বিস্তৃত। যেকোনো পরিবার, গোত্র বা জাতির উত্থান ও পতনের গতিপথ প্রধানত চার পুরুষের একটি আবর্তনে ঘটে থাকে। ১. প্রথম পুরুষ: এই পুরুষ সংগ্রামী ও মূল ভিত্তি। বহু সংগ্রাম, সাধনা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই পুরুষ ভালো গুণাবলি অর্জন করেন, শিক্ষার বিস্তার ঘটান, রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন বা ধর্মকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড় করান। তাঁরাই বংশের মূল ভিত্তি। ২. দ্বিতীয় পুরুষ: এই পুরুষ অনুসরণকারী। এরা পিতার ত্যাগ, কষ্ট ও সাফল্য স্বচক্ষে দেখে বড় হয়। ফলে তারা পিতার অনুসৃত পথেই হাঁটে। তবে এরা প্রথম পুরুষের মতো ‘ভিত্তি’ নয়, শুধু ‘অনুসরণকারী’। ফলে তাদের হাতে ঐক্যের দেয়ালে প্রথম সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দেয়। ৩. তৃতীয় পুরুষ: এই পুরুষকে বলা যায় শিথিলকারী। পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম এদের কাছে শুধুই শোনা কথা। ফলে তারা কিছু ঐতিহ্য মেনে চলে, আবার সুবিধার খাতিরে কিছু ছেড়ে দেয়। অবক্ষয়ের এই ফাটল দিন দিন আরও চওড়া হতে থাকে। ৪. চতুর্থ পুরুষ: এরা হয় অহংকারী ও পতনমুখী। চার নম্বর প্রজন্মে এসে উত্তরসূরিরা দেখতে পায়, তাদের পূর্বপুরুষদের কীর্তিগাথা স্বর্ণের সিংহাসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা ধরে নেয় এই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত খ্যাতি চিরস্থায়ী। ফলে নতুন করে কষ্ট, সততা বা সংগ্রামের কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করে না। কর্মের প্রেরণা হারিয়ে যখন তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে, তখনই তাদের সেই অজেয় দুর্গ ধসে পড়ে এবং ক্ষমতা ও গৌরব স্থানান্তরিত হয় অন্য কোনো যোগ্য ও পরিশ্রমী গোত্রের কাছে। (মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, যে সত্যের মৃত্যু নেই, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ১৯৮৭)

ইসলামি শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসেও চার পুরুষের এই আয়ুষ্কালের সমর্থন মেলে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান আনল ও ভালো কাজ করল, তারা যা কিছু ভোগ করল তার জন্য জবাবদিহি হবে না। কারণ, তারা ইমান এনেছে, ভালো কাজ করেছে ও পবিত্র জীবন অনুসরণ করেছে। আবার ইমান এনে পবিত্র জীবন যাপন করেছে ও পরোপকার করেছে। মহান আল্লাহ কল্যাণকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯৩) এখানে ইমান ও সৎ কাজের মাধ্যমে প্রথম স্তর শুরু করে পরবর্তী তিনটি স্তরের উল্লেখের মাধ্যমে চার স্তরের রূপান্তরকে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে।

হাইলাইটস:

  • পৃথিবীর কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।
  • কিন্তু এই মহাজাগতিক ক্ষণস্থায়িত্বের অন্তরালে মানুষের অর্জন, পুণ্য, চরিত্র ও গুণাবলির স্বাভাবিক আয়ু কতটুকু।
  • ইতিহাস, ধর্ম ও মানব মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেকোনো বংশ, জাতি বা আদর্শের উত্থান-পতনের এই স্বাভাবিক বয়সকাল মূলত চার পুরুষ বা চার প্রজন্মজুড়ে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন