Home » ত্রি-সিরিজ লিটনের নেতৃত্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে

ত্রি-সিরিজ লিটনের নেতৃত্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
ত্রি-সিরিজ লিটনের নেতৃত্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ফেসবুক। জুলাই মাসের শেষে লিটন দাস বাংলাদেশের ওডিআই অধিনায়কের দায়িত্ব নিলেও, মেহেদী হাসান মিরাজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর অধিনায়ক হিসেবে তার প্রথম পরীক্ষা হচ্ছে প্রায় তিন মাস পর, আজ থেকে শুরু হচ্ছে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ।

এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজটি শুধু লিটনের নেতৃত্বেরই পরীক্ষা নেবে না, বরং একটি বহুজাতিক টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তার দলের সক্ষমতারও পরীক্ষা নেবে।

জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের মাঠে সিরিজ হারের আগে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজসহ টানা চারটি ওডিআই সিরিজ জিতেছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কারণ মিরাজের সাফল্য সত্ত্বেও লিটনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ সামনে থাকায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দল কীভাবে ফলাফল অর্জন করেছে তার ওপর বেশি জোর দিয়েছে বলে মনে হয়। একজন অধিনায়কের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও একটি দল কীভাবে বিবেচিত হবে তা প্রভাবিত করতে পারে, এবং এটি এমন একটি ক্ষেত্র ছিল যা মিরাজের মেয়াদে তার বিপক্ষে কাজ করেছিল। এদিকে, লিটন এই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে একটি অর্ধশতক ও একটি শতক হাঁকিয়েছেন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তিনটি শূন্য রানে আউট এবং জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে আরও একটি শূন্য রানে আউট হওয়ার মতো বাজে ফর্ম কাটিয়ে তিনি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও লিটনের রয়েছে, বিশেষ করে ২০২২ সালে ঘরের মাঠে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারানো সিরিজে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে তিনি মোট সাতটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় ও তিনটিতে পরাজয় বরণ করেছেন এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দারুণ ছাপ রেখেছেন। তার কৌশলগত বিচক্ষণতা, ফিল্ডিং সাজানো, বোলিং পরিবর্তন এবং খেলা বোঝার ক্ষমতা তাকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব এনে দিয়েছে। আইসিসি বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশকে পরবর্তী ধাপে যেতে হলে এই কৌশলগত জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই ত্রি-সিরিজটি লিটন এবং তার দলের সামনে থাকা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জকেও সামনে নিয়ে এসেছে: দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের আসরে বাংলাদেশ দলের সম্ভাবনা থাকলেও, তারা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মঞ্চে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়। ২০২৩ সালের টুর্নামেন্টের আগে অধিনায়কত্ব পরিবর্তনে দলটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং এরপর ভারতে একটি হতাশাজনক অভিযান সম্পন্ন হয়। এবার, ২০২৭ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ শুরুর আগে লিটন তার দলকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য এক বছর সময় পাচ্ছেন।

আগামী বছরের জুনে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ রয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে তাদের অগ্রগতির একটি পরিমাপ দেবে। এ বছরের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওডিআই সিরিজের দিকেও নজর থাকবে, যা টাইগারদের অনেক আগে থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি ভালোভাবে পরখ করে নেওয়ার সুযোগ দেবে। এদিকে, আজকের ম্যাচের পর বুধবার ত্রি-সিরিজে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে, যার ফাইনাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লিটন তার ওডিআই অধিনায়কত্বের একটি ইতিবাচক সূচনা করার এবং সামনের বড় ম্যাচগুলোর জন্য তার দলের প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার আশা করবেন।

হাইলাইটস:

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক ফেসবুক।
  • এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ।
  • জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের মাঠে সিরিজ হারের আগে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজসহ টানা চারটি ওডিআই সিরিজ জিতেছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন