Home » অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর্থিক খাত ও রাজস্ব সংস্কারে বিশেষ জোর

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর্থিক খাত ও রাজস্ব সংস্কারে বিশেষ জোর

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর্থিক খাত ও রাজস্ব সংস্কারে বিশেষ জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় রাখা, মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে সুদূরপ্রসারী সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে নীতি কাঠামোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অটোমেশন প্রক্রিয়া আরও বেগবান করা হচ্ছে যাতে কর ফাঁকি রোধ করে কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে উন্নীত করা যায়। বিশেষ করে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারকদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল এবং স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট চালান ব্যবস্থা শতভাগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় সরকারি পরিচালন ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে উন্নয়ন বাজেটের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রফতানিতে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের প্রস্তাব পেশ করেছে যাতে একক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস পায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি করতে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) সকল ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অডিট সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে কঠোর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঋণ পুনর্গঠন ও জরুরি তারল্য সহায়তার ক্ষেত্রে কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে যাতে কোনো অনিয়ম প্রশ্রয় না পায়। অর্থ পাচার ও হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষায়িত আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে। রফতানি আয় দ্রুত দেশে ফেরত আনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহ দিতে রেমিট্যান্সের ডলার মূল্যে অতিরিক্ত প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করবে। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি খুব দ্রুত আগের স্থিতিশীল ধারায় ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন। রফতানিকারকরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী নকশা ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে দেশীয় কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।

হাইলাইটস:

  • ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে কঠোর মনিটরিং কাঠামো বাস্তবায়ন।
  • কর ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন ও স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে রফতানি বহুমুখীকরণ ও রেমিট্যান্স প্রণোদনা।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন