আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচারণাকালে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় রোধ করতে এবং শহর ও গ্রামীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ও প্লাস্টিকের ব্যানার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ পরামর্শ সভা শেষে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ইসির জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে অতীতে যেভাবে পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে লেমিনেটিং করা লাখ লাখ পোস্টার শহরের অলিগলিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো, এবার তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। এই অপচনশীল প্লাস্টিক নির্বাচন শেষে ড্রেনে পড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং নদীর তলদেশে জমে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এর পরিবর্তে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পরিবেশবান্ধব দেশীয় কাগজ, চটের ব্যানার ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধির তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্লাস্টিক পোস্টার অপসারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী নিয়ম অমান্য করে লেমিনেটেড পোস্টার প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা ও প্রার্থীর ওপর ভারী অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে। বারবার নির্দেশ অমান্য করলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করবে কমিশন।
পরিবেশ আন্দোলনকারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, গণতন্ত্র চর্চার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার এই অপূর্ব সমন্বয় দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায় রচনা করবে। সকল রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চললে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়
হাইলাইটস:
- নির্বাচনে প্রচারণায় লেমিনেটেড পোস্টার ও প্লাস্টিক ব্যানারের ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা。
- পরিবেশবান্ধব চটের ব্যানার ও পচনশীল কাগজ ব্যবহারে প্রার্থীদের প্রতি ইসির আহ্বান。
- আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্লাস্টিক পোস্টার টাঙালে তাৎক্ষণিক প্রার্থিতা বাতিলের সতর্কতা。