নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের রাজনীতিতে আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কালোটাকার প্রভাব নির্মূলের লক্ষ্যে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব অনুমোদিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্ম দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করিয়ে কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিবালয় থেকে দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিবদের বরাবর এই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী প্রতিটি দলের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সদস্য চাঁদা, দেশীয় অনুদান ও প্রকাশ্য ব্যয়ের সুস্পষ্ট হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কোনো দল যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নিরীক্ষিত হিসাব দাখিলে ব্যর্থ হয় কিংবা আর্থিক তথ্যে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন স্থগিতের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ আর্থিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। নির্বাচনের সময় পেশিশক্তি ও অনৈতিক অর্থের লেনদেন বন্ধ করতে হলে দলের নিয়মিত তহবিলের বৈধ উৎস জাতির সামনে উন্মুক্ত রাখতে হবে। বেনামি উৎস থেকে কোনো অস্বাভাবিক অর্থ গ্রহণ করা হলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে গণ্য হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনগুলো ইসির এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে রাজনীতিতে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সকল দলকে এই আইনি শর্ত পূরণের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাইলাইটস:
- রাজনৈতিক দলগুলোর চাঁদা, অনুদান ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের কড়া চিঠি।
- স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত বার্ষিক ব্যালেন্স শিট জমার সময়সীমা নির্ধারণ।
- বেনামি আর্থিক অনুদান ও অস্বচ্ছ বিদেশি তহবিলের বিরুদ্ধে কঠোর নির্বাচনী আচরণবিধি আরোপ।