সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত ও সরকারি তহবিল থেকে মোট ১৭ লাখ টাকার বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন ভূমিমন্ত্রী। রোববার বিকেলে রাজশাহী নগরীর ধর্মসভায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রতিটি মণ্ডপের পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ২০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আবহমান কাল থেকেই ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। রাজশাহীর ইতিহাস হলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার ইতিহাস। এখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি নাগরিকের সমান নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষায় শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অশুভ শক্তি যেন সম্প্রীতির এই পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সরকার প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে。
রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জানান, মহানগরী ও জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় যুব সমাজের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক পাহারা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে。
রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারা ভূমিমন্ত্রীর এই আন্তরিক আর্থিক সহায়তা ও সরকারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানের কারণে রাজশাহীর হিন্দু সম্প্রদায় অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে দেবীর আরাধনা সম্পন্ন ক্ষমতায় সম্পন্ন করতে পারছে। বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এই উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন。
তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সরকারি অধিদপ্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক দপ্তর
হাইলাইটস:
- প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ।
- ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা।
- প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি মন্দিরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত।