নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায়ের এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে উপাচার্যের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং তাকে শারীরিকভাবে অপদস্থ করে। এ ঘটনার পর উপাচার্যের কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়。
ভুক্তভোগী উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে একদল ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক স্লোগান দেয় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি তোলে। একপর্যায়ে টেবিলে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা একটি কাগজে তাকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং তার মুঠোফোন সাময়িকভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়。
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহল এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের পরিচয় খতিয়ে দেখতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে。
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র আদায়ের আইনগত ভিত্তি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে。
হাইলাইটস:
- উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ।
- ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য।
- ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষা ও ঘটনা তদন্তে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।