সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গঠিত একাধিক বিশেষ অনুসন্ধান টিম রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মেলায় প্রভাবশালী একাধিক সাবেক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য, সড়ক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতীতের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের সরঞ্জাম ক্রয়ে বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা দল। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়ন বরাদ্দের সিংহভাগই অতীতে লুটপাট হয়েছে অনিয়ম ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে। দেশের জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক সংযোগগুলো খুঁজে বের করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে সরাসরি মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে কমিশন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করছে।
হাইলাইটস:
- সরকারি মেগা প্রকল্পের টেন্ডার কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে দুদকের দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান।
- সন্দেহভাজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ব্যাংক হিসাব ও অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রস্তুতি।
- অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞার আবেদন।