দেশের শিক্ষিত তরুণদের মেধাভিত্তিক চাকরি নিশ্চিতে আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে বিশেষ কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ সেন্টার। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে এই সময়োপযোগী জাতীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ ছাড়া আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানী ঢাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর তা বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শ্রম অধিকার ও চাকরির সার্বিক নীতিমালা পরিচালনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করবে।
কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ সেন্টারের আওতায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে নিয়মিত চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্ভুল জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি শিল্পকারখানার শূন্য পদের চাহিদাও অনলাইনে তালিকাভুক্ত করা হবে। চাকরিপ্রত্যাশীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কারিগরি দক্ষতা অনুযায়ী সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। ফলে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্বত্বভোগী বা নিয়োগ প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে গান্ধা না। পুরোপুরি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করা হবে। দেশের শ্রমবাজার আধুনিকায়নে এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান যে নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এই কর্মসূচি। আমাদের বিশাল তরুণ জনসংখ্যাই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। কর্মসংস্থান কেন্দ্রটির মাধ্যমে মূলধারার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের যুগোপযোগী পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে যুবকদের প্রস্তুত করাই বর্তমান সময়ের বড় অগ্রাধিকার।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেও এই বিশেষ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও পর্যায়ক্রমে এই এক্সচেঞ্জ কার্যালয় স্থাপন করা হবে। নিবন্ধিত প্রার্থীরা কেবল চাকরির সুযোগই পাবেন না, ক্যারিয়ার বিষয়ক পরামর্শও পাবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা সরকারের এই মেধাভিত্তিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন যোগ্য ও দক্ষ জনবলের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই কেন্দ্রটি চালু হলে শিল্পমালিকরা সহজেই সঠিক কর্মী খুঁজে পাবেন। এতে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পুরো জাতিকে একটি স্বনির্ভর ও মেধাভিত্তিক অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
হাইলাইটস:
- শিক্ষিত তরুণদের মেধাভিত্তিক চাকরি নিশ্চিতে ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ সেন্টার।
- চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ ঘটাতে জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করবে সরকার।
- প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানী ঢাকায় পাইলট প্রকল্পের পর দেশের ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা।